‘মনে পড়লে এখনও আমার চোখে জল এসে যায়’

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একেবারে শেষের দিকে মুক্তিবাহিনী আর ভারতীয় সেনাবাহিনী যখন পাকিস্তানি সেনাদের প্রায় কোণঠাসা করে ফেলেছে, সেই সময়েই আকাশপথে একের পর এক বোমা হামলা চালায় ভারতীয় বিমানবাহিনী। আর তাতেই তরাণ্বিত হয় পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ। ১৯৭১ এর যুদ্ধে প্রথমে পশ্চিম রণাঙ্গনে, আর শেষদিকে তিনদিন হাজার হাজার পাউন্ড বোমা ফেলতে ঢাকার আকাশে উড়ে গিয়েছিলেন স্কোয়াড্রন লিডার কল্যান কুমার দত্ত। ভারত তাকে বীর চক্র দিয়ে সম্মান জানিয়েছিল। বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন হয়ে অবসর নেওয়া কল্যান কুমার দত্তর সঙ্গে কথা বলেছেন বিবিসি বাংলা। পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হয়েছে বিবিসির প্রতিবেদনে ওঠে আসা কল্যান…

আরও পড়ুন

এদেশে নারী মাত্রই কি পুরুষের “বাপের সম্পত্তি” ?

মেঘলীনা: আপনারা মানেন আর নাই মানেন, আমার কাছে তো ব্যাপারটা তেমনই মনে হয়। এই দেশে নারী মানেই কি পুরুষের বাপের সম্পত্তি!! ইচ্ছা হলো তুলে নিয়ে গেলাম, তুলে নিয়ে রেপ করলাম। রেপ করলাম তো করলাম, ইচ্ছা হলো তো মেরেও ফেললাম। ছোট্ট শিশুদের যোনি যেমন আজকাল আকর্ষণীয় পুরুষ মহলে খুব, তেমনই মায়ের বয়সী নারীও তাদের চোখে ভোগ পণ্যই। সব শ্রেণীর সকল বয়সের নারী আজকাল এই দেশের সকল পুরুষের বাপের সম্পতি। ক্লাস ওয়ানের শিশু থেকে শুরু করে গারো তরুণী, দুই বাচ্চার মা থেকে শুরু করে মাটি কাটা শ্রমিক- সকলেই পুরুষদের সম্পতি। এই দেশের…

আরও পড়ুন

প্রিয় অনন্ত… মুহম্মদ জাফর ইকবাল

সকালে একটা ক্লাস শেষ করে এসে অফিসে মাত্র বসেছি, তখন আমার একজন সহকর্মী এসে আমাকে জানাল অনন্তকে কুপিয়ে মেরে ফেলেছে। তারা তিন ভাই-বোন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে, অনন্তর বড় বোন আমার সরাসরি ছাত্রী। পাস করে দীর্ঘদিন আমার সঙ্গে একটা প্রজেক্টে কাজ করেছে। অনন্তের খবরটি শুনে আমি এক ধরনের শূন্যতা অনুভব করলাম। হাসপাতালে যেতে যেতে খবর পেলাম পোস্টমর্টেম করার জন্য অনন্তকে মর্গে নেওয়া হয়েছে। শুনে অনেকে অবাক হতে পারে; কিন্তু ওসমানী হাসপাতালের এই মর্গে আমি অনেকবার এসেছি। আমি ও আমার স্ত্রী এখানে অনেক সময় কাটিয়েছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্রছাত্রীর যখন অপঘাতে…

আরও পড়ুন

‘কত কেরামতি জানো রে বান্দা কত কেরামতি জানো!’ আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

ছোটবেলায় গ্রামবাংলায় একটা ছড়া শুনতাম। ‘কত কেরামতি জানো রে বান্দা, কত কেরামতি জানো, মাঝ দরিয়ায় ফেইল্যা জাল ডাঙায় বইস্যা টানো।’ এই গ্রাম্য ছড়ার অর্থ তখন বুঝতাম না, এখন বুঝি। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের নতুন নেতা আমেরিকা কয়েক দশক ধরে যেসব খেলা খেলছে, তা দেখে আমাদের গ্রাম্য ছড়ার মর্মার্থ মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছি। এখনো করছি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন প্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে এবং এতকালের রুগ্ণ চীনও এশিয়ায় একটি সাব-সুপার পাওয়ার হিসেবে মাথা তুলতে যাচ্ছে তখন আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী কৌশলের চূড়ান্ত পরাকাষ্ঠা আমরা দেখলাম। রাশিয়া ও চীন…

আরও পড়ুন

মানব পাচার রোধে ‘ক্রসফায়ার’ থেরাপি! <<< সোহরাব হাসান

বিষয়টি কাকতালীয় হতে পারে। যেদিন সরকার চলতি অর্থবছরে মানুষের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৩১৪ ডলারে উন্নীত হওয়ার ঘোষণা দিল, সেদিনই টিভিতে দেখলাম থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার কূলে ভিড়তে না দেওয়া সমুদ্রে ভাসমান একটি ট্রলারে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কয়েক শ বাংলাদেশি নারী, পুরুষ ও শিশুর আহাজারি। রোহিঙ্গারা তাদের দেশে অবাঞ্ছিত, বিতাড়িত। সে কারণে তারা দেশে দেশে আশ্রয়ের খোঁজে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিকেরা এভাবে কেন পাচারের শিকার হবে? স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরও কেন আমরা তাদের ন্যূনতম মানবিক ও নাগরিক সুবিধাটুকু দিতে পারলাম না? ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসির সংবাদদাতা জোনাথন হেডের ভাষ্য, ‘সে এক করুণ…

আরও পড়ুন

ভারতে সালাহ উদ্দিনের বিচার কাম্য নয়>> মিজানুর রহমান খান

সালাহ উদ্দিন আহমদকে নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাদানুবাদের চেয়ে সবচেয়ে জরুরি, তাঁকে অবিলম্বে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা। প্রশ্ন উঠেছে, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার আলোচিত আসামি নূর হোসেনের প্রত্যর্পণ যেভাবে ঝুলে গেছে, সালাহ উদ্দিনের পরিণতিও সে রকম হয় কি না। কিন্তু আমার ধারণা, ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের সদিচ্ছা থাকলে সালাহ উদ্দিনকে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা ছাড়াই দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব। গতকাল একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর কাছে জানতে চাইলে তিনি যুক্তি দেখান, সীমান্ত এলাকায় হলে বিএসএফ তাঁকে পুশব্যাক করতে পারত। কিন্তু এখন যেহেতু ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা হয়েছে, তাই…

আরও পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের গানে বুদ্ধ : চেতনা ও দর্শন

তপন বাগচী রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিবিশ্বে ও চেতনাবিশ্বে গৌতম বুদ্ধ ও বৌদ্ধধর্মে প্রভাব নানানভাবে লক্ষ্য করা যায়। বৌদ্ধ কাহিনী নিয়ে তিনি বেশ কিছু কবিতা ও নাটক রচনা করেছেন। তাঁর গানেও পাওয়া যায় বৌদ্ধধর্ম ও দর্শনের উপকরণ। বুদ্ধদেব নিজেকে দেবতা কিংবা ঈশ্বর প্রেরিত বলে প্রচার করেননি। তিনি নিজেকে ‘মানবপুত্র’ বলেই মনে করতেন। মানবপুত্র বুদ্ধদেবের প্রতি রবীন্দ্রনাথ শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। আর কোনো ধর্মগুরুর প্রতি রবীন্দ্রনাথকে এতটা ভক্তিপূর্ণ মনে হয়নি। বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ না করলেও বুদ্ধের আদর্শকে তিনি গ্রহণ করেছেন, বুদ্ধের বাণীকে তিনি প্রচার করেছেন। ‘বুদ্ধদেব’ নামে একটি গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। ওই গ্রন্থে তিনি লিখেছেন, ‘ভারতবর্ষে…

আরও পড়ুন

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কোন পথে >>> আব্দুল কাইয়ুম

ঢাকা ও চট্টগ্রামে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর দুটি ঘটনা বিস্ময়কর মনে হয়েছে। আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বিজয়ী প্রার্থীরা ঢাকঢোল বাজিয়ে কোনো বিজয় মিছিল বের করেননি। অন্যদিকে বিএনপিও দুপুর ১২টা না বাজতেই তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বারোটা বাজিয়ে চুপচাপ ঘরে ফিরে গেছে, কোনো হরতাল বা প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করেনি। সাম্প্রতিক রাজনীতির উত্তাপের সঙ্গে এ দুটি ঘটনার কোনোটিই খাপ খায় না। এক পক্ষ যে বিজয় মিছিলের নামে হইহুল্লোড় শুরু করেনি আর অন্য পক্ষ যে লাগাতার অবরোধ-হরতাল ডেকে বসেনি, সেটা ভালোই হয়েছে। নাগরিকেরা স্বস্তি পেয়েছে, সন্দেহ নেই। কিন্তু এ রকম তো হওয়ার কথা নয়। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল এভাবে…

আরও পড়ুন

বুদ্ধপূর্ণিমার তাৎপর্য ও বৌদ্ধধর্মের বিশ্বজনীনতা

সবুজ বড়ুয়া শুভ একটা সম্প্রদায়ের আত্মপরিচয়ের বাহন একদিকে তার দর্শন ও ধর্ম, তেমনি অন্যদিকে তার ঐতিহ্য ও চলমান বর্তমান। বাংলাদেশী বৌদ্ধদের রয়েছে তেমনি গৌরবোজ্জ্বল ধর্ম, দর্শন ও ঐতিহ্য। বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শন পঁচিশ শতাব্দীরও বেশি কাল ধরে মানবসমাজকে এক নতুন আলোর সন্ধান দিয়েছে। এই আলোর পথ ধরেই দেশে দেশে জন্ম নিয়েছে, নব নব কৃষ্টি সভ্যতার। কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, বর্ণবাদ, গোঁড়ামি ও সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে বৌদ্ধ ধর্ম এক ব্যাপক বিদ্রোহ। ঘন ঘোর তমসাচ্ছন্ন পরিবেশ, হিংসা-বিদ্বেষ হত্যা-জিঘাংসা, হানাহানি স্বার্থপরতা, বর্ণাশ্রম জাতিভেদ প্রথার উৎপীড়নে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, মহাকালের সেই ক্রান্তিলগ্নে ভারতবর্ষের ভাগ্যাকাশে উদিত হয়েছিল এক…

আরও পড়ুন

মনজুরের আপদ, নাছিরের বিপদ- সোহরাব হাসান, চট্টগ্রাম থেকে ফিরে

বন্দরনগর চট্টগ্রাম অনেক দিক দিয়ে অগ্রগামী। এই চট্টগ্রামেই ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধে যুব বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এই চট্টগ্রামেই রচিত হয় একুশের প্রথম কবিতা—‘আমি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’। এই চট্টগ্রামেই ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয়। পাহাড় ও সমুদ্রবেষ্টিত চট্টগ্রাম একদা প্রাচ্যের রানির শিরোপা পেলেও এখন অনুজ্জ্বল, শ্রীহীন। ১৮৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম পৌরসভা, যা সিটি করপোরেশনে রূপ নেয় ১৯৯০ সালে। এই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হতে যাচ্ছে ২৮ এপ্রিল। শহরজুড়ে সড়কের মোড়ে মোড়ে, দেয়ালে, ভবনে বিভিন্ন প্রতীকসংবলিত সাদাকালো পোস্টার শোভা পাচ্ছে। মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা…

আরও পড়ুন

ঘটনা দুটি—মূল কারণ একটাই- সৈয়দ আবুল মকসুদ

তাজ্জব সব ঘটনা ঘটে বাংলার মাটিতে শুধু নয়, বাংলার পানিতেও। ঘটনা ও দুর্ঘটনা শুধু বাংলার নদ-নদী, হাওর-বাঁওড়, পাহাড়-বনভূমিতে ঘটে তা-ই নয়, বাংলার রাজধানীর সবচেয়ে বড় উদ্যানেও ঘটে, ঝিলের পানিতেও ঘটে। ব্যাবিলনের শূন্যোদ্যানের কথা আমরা জানি, কিন্তু জলাশয়ের পানির ভেতর নড়বড়ে খাম্বার ওপর বহু কামরাবিশিষ্ট দোতলা বাড়ি বানানোর কথা কখনো শুনিনি। জমিদার পরিবারের মানুষ দেওয়ান হাসন রাজা দালানে থাকতেন। তা সত্ত্বেও বাউলা বলেছেন, ঘরবাড়ি ভালা না আমার। জোতজমি বিষয়সম্পত্তি যথেষ্ট থাকা সত্ত্বেও তিনি বলেছেন, কি ঘর বানাইমু আমি শূন্যের মাঝার। অবশ্য সবাই শূন্যের মাঝারে ভালা ভালা দোতলা বাড়ি বানাতে পারেন না।…

আরও পড়ুন

‘ভারত আমাদের চিট করেছে’

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বীরউত্তম কীভাবে যে দিনগুলি কেটে যাচ্ছে বুঝতে পারছি না। ২৬ই মার্চ স্বাধীনতা দিবসে ‘The Daily Star’-এ আমেরিকায় বসবাসরত ড. নূরুন্নবীর ‘The Tangail Landings : A signal for victory’ পড়লাম। লেখাটি বেশ কয়েক বছর আগে ছাপা তার এক বইয়ের অংশ বিশেষ। ঘটনাটি আজকের নয়, ৪৪ বছর আগের। অথচ মনে হল এই যেন সেদিন পুংলী, ভুক্তা, এলেঙ্গার আশপাশে ছত্রীবাহিনী নামছে, আমরা টাঙ্গাইল দখলে বিদ্যুৎগতিতে ধেয়ে চলেছি— সে এক রক্তের হোলিখেলা। ঠিক তেমনি ২৮ জানুয়ারি মতিঝিলের ফুটপাতে বিছানা পেতেছি। মাসের দিক থেকে তিন, দিনের দিক থেকেও একেবারে কম নয়। আনন্দ-বেদনা,…

আরও পড়ুন

বঙ্গবন্ধুর এক অনন্য ভাষণ

ড. অনুপম সেন বাংলা ভাষাভাষী বাঙালি তার হাজার বছরের ইতিহাসে ১৯৭১ সালেই প্রথম একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। এর আগে বাঙালি নিজের জাতিসত্তাকে কয়েক হাজার বছর ধরে রূপ দেয়। আজ যেখানে বাংলা-অঞ্চল সেখানে পুণ্ড্রবর্ধন, সুম্ম, রাঢ়, হরিকেল, বরেন্দ্র প্রভৃতি উপজাতি তাদের নাম অনুসারে বসতি স্থাপন করেছিল এবং এসব নামে বিভিন্ন অঞ্চল বা রাজ্যসত্তার অস্তিত্বের খবরও অস্পষ্টভাবে ইতিহাসে পাওয়া যায়। খুব স্পষ্টভাবে আমরা কর্ণসুবর্ণের স্বাধীন রাজা শশাঙ্কের কথা জানি; জানি, প্রায় ৪০০ বছর ধরে বাংলা এমনকি বাংলাকে ছাড়িয়ে পাল সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ছিল। সেন রাজারাও ছিলেন প্রায় অর্ধশতাব্দীর বেশি সময়জুড়ে বাংলার এক…

আরও পড়ুন

আমরা তোমাদের ভুলব না

আরিফ সোহেল ২৬শে মার্চ; আমাদের জাতীয় জীবনে এক অনন্য-অসাধারণ দিন। এই দিনে বার বার মনে পড়ে রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় চিরায়ত সেই কবিতার কয়েকটি ছত্র— ‘স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে/কে বাঁচিতে চায়/দাসত্বশৃঙ্খল কে পরিবে পায় হে/ কে পরিবে পায়।’ স্বাধীনতাহীনতায় কেউই বাঁচতে চায় না। তবে পদে পদে পরাধীনতার শৃঙ্খলের নির্মম আঘাতে যাদের রক্তক্ষরণ হয়নি; তাদের পক্ষে হয়তে স্বাধীনতার জন্য এই আকুলতার তাৎপর্য সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। কারো দয়ার নয়; স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছি রক্তের বিনিময়ে। স্বাধীনতা আমাদের সামনে সম্ভাবনার এক বিশাল দিগন্ত উন্মোচন করে দিয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব…

আরও পড়ুন

১৯৭১-এর অগ্নিঝরা মার্চ; হায়েনাদের তাড়ানোর পূর্বপ্রচেষ্টা

মহসীন দেওয়ান লিটন স্বাধীনতা যুদ্ধ কোনো সামরিক অভিযান নয়— স্বাধীনতার যুদ্ধ জনগণের যুদ্ধ। জনগণের অংশগ্রহণ ব্যতীত কোনো স্বাধীনতা সংগ্রাম হতে পারে না। মুক্তির সশস্ত্র চূড়ান্ত যুদ্ধে বিজয় অর্জন সম্ভব হয় না। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ধর্মের ভিত্তিতে ভারতীয় উপমহাদেশকে বিভক্ত করে ভারত ও পাকিস্তান নামের দু’টি পৃথক রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। এর ছিল দু’টো অংশ— পূর্বাঞ্চল, যা পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিমাঞ্চল, যা পশ্চিম পাকিস্তান নামে পরিচিত হয়। পাকিস্তানের ৮০ ভাগেরও বেশী অধিবাসীর ধর্ম এক ও অভিন্ন, শুধু এইটুকু মিল ছাড়া পাকিস্তান নামক এই নতুন রাষ্ট্রটির দু’টি অংশের অন্য সবক্ষেত্রেই ছিল বহু…

আরও পড়ুন

আস্থার সংকটে পুলিশ – আলী ইমাম মজুমদার

জাতি একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। গত প্রায় তিন মাস লাগাতার হরতাল-অবরোধ ও সন্ত্রাস জনজীবনকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এর মোকাবিলা করছে প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো। প্রধানত পুলিশ। তারা সংকট থেকে উত্তরণের বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে। দীর্ঘ বিরতিহীন প্রচেষ্টায় বেশ কিছু সাফল্য দেখা যাচ্ছে। এ সাফল্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে তাদের পরিশ্রম। তবে মূল ভূমিকায় জনগণ। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাদের মতামত যা-ই থাক, এটা বাস্তবায়নে জনগণ দীর্ঘমেয়াদি হরতাল আর অবরোধকে মেনে নেয়নি। তাদের সমর্থন নেই কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রতি। তবে রাজনৈতিক ইস্যুতে ঐকমত্যের অনুপস্থিতিতে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে কি না, এটা নিশ্চিত…

আরও পড়ুন

ভারতের মতো রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা দরকার- মিজানুর রহমান খান

পাঁচ বছর পর পর সংকটে যাতে না পড়তে হয়, সে জন্য রাষ্ট্রপতির হাতে ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অধ্যাপক রেহমান সোবহানসহ আরও কয়েকজন। এ রকম একটি আংশিক ভুল খবরের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। আংশিক ভুলটা হলো ‘নীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট’ (পিআরআই)–এর যে সেমিনারে ওই মত দেওয়া হয়েছিল, সেখানে রেহমান সোবহানের বক্তব্য ছিল ঠিক উল্টো। তিনি ও অধ্যাপক রওনক জাহান উভয়ে এই লেখককে বলেন, তাঁরা বরং রাষ্ট্রপতির হাতে ক্ষমতা বাড়ানোর বিরোধিতা করে বাহাত্তরের সংবিধানকেই সমর্থন করেন। রওনক মনে করেন এতে দ্বৈত শাসন সৃষ্টি হবে।…

আরও পড়ুন

এই আন্দোলন কার বিরুদ্ধে? আব্দুল কাইয়ুম

বিএনপির ভাষায় দোষ করেছে আওয়ামী লীগ। ওরা গত বছর বিএনপিকে বাদ দিয়ে একতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতার ধারা অব্যাহত রেখেছে। তাই তাদের ‘শাস্তি’ পেতে হবে। কিন্তু কী ব্যবস্থাপত্র দিল ওরা? একটানা অবরোধ, তার সঙ্গে সপ্তাহে পাঁচ দিন হরতাল। শাস্তি পাচ্ছে কে? আওয়ামী লীগ বা সরকারকে তো কাবু করতে পারছে না। প্রায় আড়াই মাস হতে চলল। গদিচ্যুত হওয়া তো দূরের কথা, গদি নড়েও না। তাহলে এই দাওয়াইয়ে লাভ কী? মাঝখান থেকে মানুষ পেট্রলবোমায় পুড়ে মরছে। গাড়ি পুড়ছে। রেলগাড়ি লাইনচ্যুত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের কিছু ক্ষতিপূরণ দিয়েই…

আরও পড়ুন

সরকারি দল ও বিএনপি এখন কী করতে পারে? – আলী রীয়াজ

গত কয়েক সপ্তাহে, বিশেষত এক সপ্তাহে, দেশে সহিংসতার মাত্রা কমে এসেছে। বিক্ষিপ্ত-বিচ্ছিন্নভাবে পেট্রলবোমা বা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের ডাকা অবরোধ ও হরতালের এখন আর কার্যকারিতা নেই; যদিও জোটের পক্ষ থেকে এখনো হরতাল বা অবরোধ কোনোটাই তুলে নেওয়া হয়নি এবং মানুষের মধ্যে শঙ্কা দূর হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে অনেকের আশা ছিল যে বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া তাঁর ‘সংবাদ সম্মেলনে’ হয়তো এই ধরনের কর্মসূচি তুলে নেবেন কিংবা নতুন কর্মসূচি দেবেন। এর কোনোটিই ঘটেনি। তবে তাঁর বক্তব্যে যে পরিবর্তন ঘটেছে, সেটা ভালো করে তাকালেই বোঝা যায়। তাঁর দাবিনামায় এখন আর তত্ত্বাবধায়ক…

আরও পড়ুন

এদেশের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার সর্বনাশ করলো কে? মুহম্মদ জাফর ইকবাল

আমি জানি এই মুহূর্তে দেশের মানুষ এই প্রশ্নের উত্তরে বেগম খালেদা জিয়ার নাম বলবে। দেশের মানুষকে দোষ দেয়া যাবে না। কারণ টানা হরতালের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েদের। যারা কট্টর বিএনপি কিংবা জামায়াতপন্থি তারা অবশ্য গলার রগ ফুলিয়ে বলবেন, ‘সব দোষ এই সরকারের। এই সরকার যদি গোঁয়ার্তুমি না করতো তাহলেই তো পেট্রোলবোমা ফাটাতে হতো না, হরতাল ডাকতে হতো না।’ রাজনীতির মাঠের ব্যাপারগুলো আমি মোটেও বুঝি না। মান্না-খোকার টেলিফোন আলাপটি প্রকাশ হবার পর বলা যেতে পারে আমি প্রথমবার মাঠের রাজনীতি খানিকটা বুঝতে পেরেছি। মাঠের রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের কী হচ্ছে…

আরও পড়ুন
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Send this to a friend