অনি আলমগীরের ৪টি কবিতা

111

নতজানু হয়ে গেছি শেকড়ের পায়ে

মাটির বুকের ভেতর কী যেন এক মায়া মায়া গন্ধ
এ সব গন্ধে নিরাপদে মুখ গুঁজে দিতে দিতে খুব করে মনে পড়ে
আইরি বনে পাখা মেলে সাঁতার কাটা প্রজাপতির কথা
পাখিরা কি কোনো কালে প্রজাপতি ছিল, ছিল হয়তো
প্রজাপতির বুকজুড়ে জলরঙে আঁকা ছিল ঘুড়ি পাখি গান
গ্রামীণ ঘুড়িরা শহরে এলে ছাদে ছাদে বেড়ে ওঠে বালিকার মেলা
উড়ন্ত পাখিরা মেঘ থেকে চুপি চুপি পড়ে নেয় জলের ফোঁটা
পাখিরা কি পড়তে পারে বালিকাদের বুকের আদল, পারে হয়তো
কবিদের আড্ডায় ছেলেটার ছলমলে জুলফিতে প্যাঁচ খায় স্বপ্নের ঘুড়ি
বালিকার হাতে হাতে ঘুরপাক খেয়ে খেয়ে
কবিদের ভিড়ে এসে প্রথাবাদী প্রজাপতি হয়ে গেছে রাখাল ছেলে
বালিকারা কি জানে কবিতার কাগজে ভালবাসার পংক্তি লিখে
শাহবাগে বসে থাকে জলরঙা কবি, জানে হয়তো…

পাখি সিস্টেম-১৪
বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মানুষের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা অনন্য নন্দন!
তবু তো বন্ধ হয় নি মুক্ত আকাশে ভেসে থাকা ছোট্ট পাখিদের ভেসে চলা
আচ্ছা পাখিদের কি হাওয়ায় ভাসতে প্যারাসুট লাগে? লাগে হয়তো
আমি পাখি হতে চেয়েছি, পাখাহীন, প্যারাসুটহীন।

সন্ধ্যায় ঘরে ফিরতে ফিরতে যেখানে ছড়াতে থাকে সহ-উড্ডীন নান্দনিক পাখিটির ঘ্রাণ
আমি কি পাখিটির ঘ্রাণকে ক্যানভাস বানিয়ে লিখে দিতে পারি :
পাখিদিন শুরু হোক পাখাহীন স্রোতে …

পালক ও পরাগ

টলমলে ঢেউয়ের রেলিঙে দাঁড়িয়ে যে পদ্মফুলটি
গ্যাঙনাম স্টাইলে দুলেছিল
তার মুখে উন্মত্ত লজ্জার পরাগ থৈ থৈ উড়ে গেল।
আর উড়ে যাওয়া হাঁসের সারি থেকে
কেউ একজন রেখে গেল একটি শুভ্র পালক।
পালক ও পরাগের মধ্যে নিরন্তর অনুভূতির ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সন্ধ্যা জাগে।
একবার শাশ্বত সন্ধ্যা শুধু বলুক…আমি তোমাতে প্রণত হলাম।
পালক ও পরাগ স্পন্দিত হবে…স্পন্দিত হবে কম্পিত ঢেউয়ে…
আহত এলাচদানার ঝাঁঝে একদিন লিখিত হবে
মুছে যাওয়া শেষ রোদ্দুরের গল্প।

আজ আমি সবুজ কুয়াশার মুঠোফোনে দেখতে থাকলাম তাকে
তারার নির্বিচার আলোয় নেমে এসে সে যেন বলে গেল : এই তো আমি…
চকমকি পাথরের মতো জ্বলে উঠল তার চোখ…
আস্থার সাহস কি এর থেকেও বেশি কিছু হয়…হয়তো বা হয়…
প্লিজ প্রভু প্লিজ
বিবেকের কাছে জানতে চাইলাম, তোমাকে ব্যবচ্ছেদ করলে তুমি কি খুব দুঃখ পাবে? বিবেক নিজে থেকেই রক্তের প্রস্রবণ তুলে বললেন, নে রক্তখেকো শুদ্ধ হ’।

নোনতা রক্তজলে ভিজতে ভিজতে আমি মধ্যরাতে নস্টালজিক জোছনার কাছে দুহাত তুলে কাঁদতে বসেছি। অনর্গল ভুলের সবুজে যাদের বিচরণ, প্রভু তুমি কি তাদের দহন বোঝ না, তবে এ রক্তের অনুচক্রিকায় কেন প্রোথিত করলে না বিষাক্ত বিবেক। আমি তোমার বালুর কোটরে লুকিয়ে থাকা চিরায়ত ছোবলবাদী বিষাক্ত সন্তান হতে চাই— অনাহূত রক্তপায়ী নেকড়েরূপী দানব হতে চাই। প্রভু আমার মধ্যরাতের স্বপ্নকে তুমি কবুল করে নাও মাওলা। বিনিময়ে শুধু এ মাটির বুকে লুকায়িত বিবেককে ব্যবচ্ছেদ করো না প্লিজ।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Send this to a friend